1. amarcampus24@gmail.com : admin2020 :
মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন

সিকৃবি অছাত্র মাদকসেবীদের আস্তানা

আমারক্যাম্পাস/ সিবি প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম :: রবিবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২০
সিকৃবির হলে মাদকসেবীরা

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) বিভিন্ন হলে প্রশাসনের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের অছাত্র ও মাদকসেবীরা অবস্থান করছে। এ জন্য হলে হলে বাড়ছে মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা ও তাদের দৌরাত্ম্য। অভিযোগ রয়েছে প্রশাসনকে সমর্থন ও সহযোগিতা করার শর্তে তাদেরকে হলে বসবাসের সুযোগ দেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এদের কয়েকজনকে চাকরি দেয়ার আশ্বাসও দিয়েছে। এমনকি ইয়াবা সেবনকারী এক ছাত্রলীগ নেতাকে চাকরিও দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

শুধু এখানেই শেষ নয়, মাদক চালানের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী। মাদকের সহজলভ্যতার কারণে দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে মাদকসেবীর এবং মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক মো. রেজাউল হাসান (মুন্না) হলে থাকা অবস্থায় ইয়াবা সেবন করত। ২০১০-১১ সেশনের এগ্রিকালচার ফ্যাকাল্টির এই শিক্ষার্থীর ইয়াবা সেবনের ছবিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। আশরাফ উদ্দিন নামের এক আইডি থেকে ২০১৮ সালের ২৬ জুলাই কয়েকটি ছবি সংযুক্ত একটি পোস্ট দেয়া হয়।

‘ইয়াবা খোরদের আস্তানা সিকৃবি’ শিরোনামে দেয়া পোস্টে লেখা ছিল- ‘ভার্সিটি একটি মুক্তমনের জায়গা যেখানে প্রতিটি ছাত্রই মুক্ত চেতনার বিকাশ ঘটায়। তার মানে কি এটা, যে নেশাগ্রস্ত হয়ে মাতলামি করা।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে বলছি, আপনাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে আপনারা হতাশ। আপনাদের নিয়ে কিছু লেখলেই শোকজ খেতে হয়! এফবি আইডি দেখে কে কি লিখেছে তা দেখে আপনারা শোকজ দেন।

কিন্তু আঁতুড়ঘরে বসে যারা ইয়াবা সেবন করে, যাদের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন থাকে পুরা হল তাদের আপনার খুঁজে পান না? হতে পারে তাদের কেউ কথায় কথায় ছাত্রলীগের নাম বিক্রি করে চলে।

কিন্তু শিক্ষা শান্তি প্রগতির ধারক ও বাহক ছাত্রলীগে ইয়াবা, নেশাগ্রস্ত মাতালদের কোনো স্থান নেই। সিকৃবি ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতাদের বলছি, যে চেতনায় আমরা ছাত্রলীগ করি সে চেতনাকে কলুষিত করছে এরা। এদের হাতে জুনিয়ররা পথভ্রষ্ট হচ্ছে। এরা দিনে-রাতে আসর বসিয়ে নষ্ট করছে সিকৃবির পরিবেশ।’

ওই পোস্টের ছবিতে দেখা যায়, মুন্না ও তারেক দু’জনেই ইয়াবা সেবন করছে। তখন দু’জনই ছিল কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী। সেই মুন্না বর্তমানে সিকৃবির প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও শাহপরান হলের সেকশন অফিসার।

যদিও ইয়াবা সেবনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন রেজাউল হাসান মুন্না। তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় করতে একটি পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে এরকম ছবি ওঠানো হয়। এরপর তা ফেসবুকে দেয়া হয়। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ছাত্রত্ব শেষ হলেও এখন পর্যন্ত অন্তত ১০-১২ ছাত্রলীগ নেতা ক্যাম্পাসের হলগুলোয় বসবাস করছে । মজার ব্যাপার হল তাদের সঙ্গে সমঝোতা করে হলে আছেন ছাত্রদলের এক নেতা।

অবৈধভাবে এখনও হলে অবস্থান করছেন সিকৃবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক অনিক দেবনাথ। আবদুস সামাদ আজাদ হলের ৩০১ নং রুমে বসবাসকারী অনিক ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে মাস্টার্স শেষ করেন।

হলে আছেন উপ-সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক মিথুন দাস। হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী হলের ২৫৩ নং রুমের বসবাসকারী মিথুনের মাস্টার্স শেষ হয় ২০১৯ সালের জুন মাসে।

ছাত্রলীগের উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক গৌতম পাল হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী হলের ২৬৪নং রুমে অবস্থান করছেন। তার মাস্টার্স শেষ হয় ২০১৯ সালের জুন মাসে। ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন আবদুস সামাদ আজাদ হলের হলের ৩০৫নং রুমে বসবাস করছেন।

তার মাস্টার্স শেষ হয় ২০১৮ সালের জুলাই মাসে। আবদুস সামাদ আজাদ হলের ৩০১নং রুমে বসবাসকারী মাশরুর আহমদের মাস্টার্স শেষ হয় ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে।

একই হলের ২৬০নং রুমে বসবাসকারী কৃষ্ণ গোস্বামীর মাস্টার্স শেষ হয় ২০১৯ সালের জুন মাসে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের সহসভাপতি মাসুদ পারভেজ চৌধুরী একই হলের ৩০১নং রুমে বসবাস করছেন। তার মাস্টার্স শেষ হয় ২০১৯ সালের জুন মাসে।

এভাবে ছাত্রলীগ নেতা ময়জুল ইসলাম রাহাত, খালিদ হাসান তারেক, অভিজিৎ পাল অবৈধভাবে হলে অবস্থান করছেন।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান অবৈধভাবে আবদুস সামাদ আজাদ হলের ৫০৬ নং রুমে বসবাস করছেন। তার মাস্টার্স শেষ হয় ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে।

ক্যাম্পাসে এদের ভয়ে কেউ মুখ খোলে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সোহেল মিঞা, রেজিস্ট্রার বদরুল ইসলাম সোয়েব ও ছাত্র উপদেষ্টা মিটু চৌধুরী এদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা বলে অনেকের অভিযোগ।

জানতে চাইলে আবদুস সামাদ আজাদ হলের ফিশারিজ ফ্যাকাল্টির টেকনোলজি অ্যান্ড কোয়ালিটি কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী আলমগীর হোসেন বলেন, পড়াশোনা শেষ। আমি ছাত্রলীগের হল সাধারণ সম্পাদক। হয়তো আবারও অন্য কোনো কোর্সে ভর্তি হব। আমার বিরুদ্ধে আনা অন্য সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক।

ছাত্রলীগ নেতা ও এগ্রিকালচার ফ্যাকাল্টির প্ল্যান্ট প্যাথলজি ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী অভিজিৎ পাল হলে থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ডিফেন্স সম্পন্ন না হলে এক সেমিস্টার থাকার সুযোগ রয়েছে। আর ইয়াবা সেবন বা ব্যবসা- কোনোটির সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই। এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ।

অবৈধদের আশ্রয় দেয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সিকৃবির রেজিস্ট্রার বদরুল ইসলাম সোয়েব বলেন, ছাত্রদের বিষয়গুলো দেখেন প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা। তারা এ ব্যাপারে সঠিক তথ্য বলতে পারবেন। এ ছাড়া যে অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও অসত্য।

প্রক্টর সোহেল মিঞা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ছাত্রলীগের মাদকসেবী ও অছাত্রদের বসবাসের ব্যাপারে হলের প্রভোস্টরা আমাদের কিছুই জানাননি। হল প্রভোস্টদের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে জানালে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

একই কথা বলেছেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা মিঠু চৌধুরীও। এ ব্যাপারে সিকৃবি ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. মতিয়ার রহমানের বক্তব্য জানতে তার ব্যক্তিগত ও অফিশিয়াল মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল ও খুদেবার্তা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সাড়া না দেয়ায় তার বক্তব্য নেয়া যায়নি।

আমার ক্যাম্পাস/ ঢাকা

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর