1. amarcampus24@gmail.com : admin2020 :
আইনজীবী লিখিত পরীক্ষা নিয়ে এক শিক্ষারর্থীর কিছু কথা - AmarCampus24
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৩৪ অপরাহ্ন

আইনজীবী লিখিত পরীক্ষা নিয়ে এক শিক্ষারর্থীর কিছু কথা

আমার ক্যম্পাস/নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম :: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

আইনাঙ্গনে আইনজীবী তালিকাভুক্তিকরন নিয়ে বর্তমানে যে সংকট, অনিশ্চয়তা, অনাস্থা তৈরি হয়েছে তা কি আইনাঙ্গনের জন্য ভালো কিছু বয়ে এনেছে বা বয়ে আনবে? কথাটি আরো সুস্পষ্টভাবে বললে গত তিন বছর নতুন আইনজীবী তালিকাভুক্ত না হওয়ায় আইনাঙ্গনের বা আইনজীবীদের জীবনে কি কি সুফল বয়ে এনেছে তা কি কেউ বলবেন?

কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আহত অথবা ব্যথিত করার জন্য নয়, জানার কৌতূহল থেকে প্রশ্নটি জিজ্ঞেস করলাম। নতুন আইনজীবী তালিকাভুক্ত না হওয়ার সুফল যদি জানা যায় তাহলে আইনের ছাত্র হিসেবে কেবল আমরাই নই সাধারণ মানুষও উপকৃত হবে, দেশ উপকৃত হবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশ ও জাতি আমাদের অনুসরণ করে তারাও উপকৃত হতে পারবে তাতে বিশ্ব উপকৃত হবে, লাভবান হবে।

দীর্ঘ তিনবছর বার কাউন্সিল কোনো আইনজীবী তালিকাভুক্তিকরণ সম্পন্ন করেনি অথবা করতে পারেননি? কেনো করেনি বা করতে পারেননি তার কোনো বক্তব্যও আজও পাইনি।

কবে নাগাদ আবার আইনজীবী তালিকাভুক্তিকরণ করতে পারবে বা আদৌ বার কাউন্সিলের বর্তমান কমিটি কোনো আইনজীবী তালিকাভুক্তিকরন সম্পন্ন করতে পারবে কিনা তাও আমরা জানিনা।

যাইহোক এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা যখন বছরের পর বছর অতিবাহিত করছিলো দুঃখজনক হলেও সত্য আজ যারা লিখিত পরীক্ষার জন্য সরব, লিখিত পরীক্ষার বিকল্প কিছু দেখছেন না তখন শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের পাশে তাদের কেউ দাড়ায়নি।

আজকের তাদের কেউ সেদিন বলেনি উচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী প্রতি বছর এক‌টি এনরোলমেন্ট পরীক্ষা পাওয়া শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের আইনগত অধিকার। অবাক করা বিষয় হলো আইনাঙ্গনের একটা সম্ভাবনাময় জেনারেশনের পাশে হাতে গোনা কয়েকজন ব্যতীত কেউ দাঁড়ালো না।

কিন্তু আজ যখন শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা যৌক্তিক আন্দোলনের পর প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এনরোলমেন্টের দীর্ঘ দিনের অচলাবস্থা নিরসনের জন্য এবং করোনা পরিস্থিতিতে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়া যখন অনিশ্চিত তখন লিখিত পরীক্ষা মওকুফ চাচ্ছে তখন অনেককেই আইনাঙ্গনের সম্ভ্রম বাঁচানোর জন্য জীবন বাজি রেখে লিখে যেতে, লড়ে যেতে দেখছি।

কিন্তু যখন লিখিত পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে তখন তারাই আবার নীরব। অদ্ভুত পৃথিবী, বৈচিত্রময় মানুষের মন।

প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের সনদ প্রদান তারা সমর্থন করেনা, অনেকে আবার প্রিলিমিনারি পরীক্ষাকে পরীক্ষায় মনে করেন না।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা যদি পরীক্ষায় না হয় তাহলে এই প্রক্রিয়াটি রাখার দরকার কি? বাদ দেন না কেনো বা বাদ দেওয়ার জন্য বলেন না কেনো? যদি পরীক্ষায় মনে করেন তাহলে পরীক্ষা বিহীন সনদ চাওয়া হচ্ছে তা বলেন কেনো? ইন্ডিয়ান বাংলা একটা সিনেমা আছে বোঝে না সে বোঝে না, বিষয়টা হয়তো সেইরকমই হবে।

তাদের এসব কথা ও কাজ দেখে বুঝি না আমরাও বুঝি না।

শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণদের সনদ দাবি করছে তিনটি আশংকা থেকেঃ ১) করোনা পরিস্থিতিতে লিখিত পরীক্ষা অনিশ্চিত, ২) লিখিত পরীক্ষায় অস্বচ্ছতা এবং ৩) দূর্নীতির আশংকা।

এবার দেখাযাক উপরের তিনটি আশংকা কতটুকু সঠিকঃ

১) করোনা পরিস্থিতিতে লিখিত পরীক্ষা অনিশ্চিত শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের এমন আশংকা যে শতভাগ সঠিক তা ২০ই সেপ্টেম্বরের নোটিশের মাধ্যমে বার কাউন্সিল তা স্পষ্ট করে দিয়েছে এবং স্বীকারও করে নিয়েছে।

২) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষা থেকে এই রাষ্ট্রের সব পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্রে OMR যুক্ত আছে কিন্তু একমাত্র বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট পরীক্ষার খাতায় OMR নাই এবং রিভিউ নাই। অর্থাৎ দ্বিতীয় আশংকাও সঠিক বা প্রমাণিত হয়েই আছে।

৩) সর্বশেষ যে বিষয়টি দূর্নীতি, ২০১৭ সালের প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় একই সিরিয়ালে ১১৮ জন উত্তীর্ণ হওয়া। এছাড়াও বিচারক থেকে শুরু করে আইনজীবী অনেকেই এনরোলমেন্ট পরীক্ষার বিষয়ে তাদের ভোগান্তি ও অভিজ্ঞতার কথা সোস্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে নিউজ মিডিয়ায় ইতিমধ্যে শেয়ার করেছেন।

এই বিষয়ে সুষ্ঠ তদন্ত ও সংশ্লিষ্টদের সম্পদের অনুসন্ধান করলে আশাকরি সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাবে।

এমন উৎকন্ঠা, অনিশ্চয়তা ও অস্বচ্ছতার পর কি পজিটিভ কিছু কি আশা করা যায়? একটা প্রবাদ তো আছেই নগর পুড়িলে কি দেবালয় এড়ায়?

বর্তমান সময়ে একজন মানুষ একটি ভালো বা যৌক্তিক কাজের বিরোধীতা করে মূলত তিনটি কারনেঃ ১) যদি বিরোধীতার কারনে তার আর্থিক বা অন্য কোনোভাবে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকে।

২) দ্বিতীয় শ্রেণীর এদের ব্যক্তিগত কোনো লাভ থাকে না, তবে এরা সংস্কারের বিপক্ষে থাকে। প্রাগৈতিহাসিকভাবেই এই শ্রেণী এই উপমহাদেশে প্রতিষ্ঠিত। সতীদাহ রদ থেকে বিধবা বিবাহ চালুকরণ সব কিছুতেই তারা সক্রিয় ছিলেন এবং বর্তমান সমাজে এখনো আছেন।

৩) উনারা সুবিধাবাদী প্রকৃতির মানুষ, কোন দিকের অবস্থা ভালো সেটি বিবেচনা করে তারা সরব হোন অথবা নীরব থাকেন। বর্তমান সময়ে সোস্যাল মিডিয়া হাতের মধ্যে চলে আসায় তারা সুবিধা অনুযায়ী মতামত দিয়ে তাদের ঈমানী দায়িত্ব পালন করেন।

এখন কথা হচ্ছেঃ ১) এই করোনকালীন সময়ে যারা প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণদের সনদ দাবির বিপক্ষে তারা এই সংকট ও অনিশ্চয়তা কাটা‌নোর জন্য দুই – এক লাইনের মন্তব্য না করে একটি পূর্নাঙ্গ রোডম্যাপ দিবেন বলে আশা করছি।

২) ইতিপূর্বে বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ হোসাইন হুমায়ুন স্যার এবং গত ৯ই আগস্ট সচিব মহোদয় শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের প্রতিনিধিদের বলেছেন ২৬শে সেপ্টেম্বর পরীক্ষা নিতে না পারলে লিখিত মওকুফের বিষয়টি বিবেচনা করবেন।

আশাকরছি উনারা প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণদের লিখিত পরীক্ষা মওকুফ করবেন ( কেউ আবার পরীক্ষা ব্যতীত সনদ দাবি করা হচ্ছে বলে গুজব ছড়াবেন না)

লিখিত মওকুফের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার জন্য আরো দুইটি বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার জন্য অনুরোধ করছিঃ ১) শীতকাল আসতে খুব বেশিদিন নাই, শীতের মধ্যে করোনা পরিস্থিতি খারাপ হবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশংকা করছে।

২) বার কাউন্সিলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ আর মাত্র (৮) মাস আছে। এই সময়ের মধ্যে বর্তমান এনরোলমেন্ট প্রসেসটি সমন্ন করতে না পারলে, এই কমিটিই হবে বার কাউন্সিলের একমাত্র কমিটি যে কমিটি কোনো এনরোলমেন্ট প্রসেস সম্পন্ন করতে পারবে না।

এই বিষয়টি বর্তমান কমিটির প্রত্যেকটি সদস্যর জন্য কতটুকু ইতিবাচক হবে সেটিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

বর্তমান কমিটি যদি তাদের এই বিদায়ের ক্রান্তিলগ্নে নিম্নোক্ত কাজ গুলো করে যেতে পারেন তাহলে আইনাঙ্গনে তারা ইতিবাচক ভাবমূর্তি হিসেবে অম্লান হয়ে থাকবেনঃ

১) বর্তমান এনরোলমেন্ট প্রসেস পুরোপুরি সম্পন্নকরণ

২) প্রতি ক্যালেন্ডার ইয়ারে এনরোলমেন্ট পরীক্ষার কোন ধাপটি কোন মাসে অনুষ্ঠিত হবে সেই বিষয়টি বার কাউন্সিলের বিধিতে অন্তর্ভুক্তিকরণ এবং

৩) ক্রান্তিকালীন, দূর্যোগ ও মহামারীর সময়ে এনরোলমেন্ট প্রসেসটি কিভাবে সম্পন্ন হবে সেই বিষয়টি বিধিতে অন্তর্ভুক্তিকরণ।

যারা পরীক্ষা পেছানোর জন্য অসন্তুষ্ট যাওয়ার আগে তাদের উদ্দেশ্যে বলবো, আপনারা যে এই করোনার মধ্যে পরীক্ষার একটি তারিখ পেয়েছিলেন এটি আন্দোলনের ফসল ছিলো।

গত ২০ তারিখ পরীক্ষা স্থগিত করে বার কাউন্সিল যে নোটিশ দিয়েছে তা আন্দোলনের কোনো ফলাফল না এবং তাতে আন্দোলনকারীদের কোনো সম্পৃক্ততা নাই।

আপনারা বার কাউন্সিলের পরীক্ষা স্থগিত করার নোটিশের দিকে তাকালে দেখবেন, সেখানে স্পষ্টভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে অসম্মতির কথা উল্লেখ করা আছে।

আপনারা জানেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিল একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কখনোই আরেকটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে মনগড়া কিছু লিখতে পারে না।

পরীক্ষা স্থগিত করার নোটিশ আসার পর আপনি যখন আন্দোলনকারীদের বংশ উদ্ধার করছেন ঠিক তখনও তারা প্রেসক্লাবের সামনে লিখিত পরীক্ষা মওকুফ চেয়ে শ্লোগান দিয়ে যাচ্ছেন। এখানে আপনার মন্তব্য আর তাদের বক্তব্য তো মিলে না।

সবশেষে বলবো আপনি যদি সত্যিই এই অচলাবস্থার অবসান চেয়ে থাকেন তাহলে আপনার উচিত আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ানো।

অর্থাৎ স্বশরীরে অথবা লেখালেখির মাধ্যমে অথবা মৌন সমর্থন দিয়ে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ানো।

কিছু শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের দেখি তারা যৌক্তিক সমালোচনা করার পরিবর্তে ব্যক্তিগত হেনস্তা বা গালি দিতেই যেনো স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

একটা ইতিবাচক দিককেও নেতিবাচকভাবে দেখেন বা সব কিছুকেই নেতিবাচকভাবে দেখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। যদি কোনো বিষয়ে আপনি কারো সাথে একমত হতে না পারেন তাহলে আপনি আলোচনা করুন, তাতে যার কথা বা লেখায় আপনি মন্তব্য করছেন সে তার ভুল শুধরে নিতে পারবে আর আপনার মধ্যে যদি কোনো ভুল থাকে সেটি আপনিও শুধরে নিতে পারবেন।

যারা আপনাদের আলোচনাটা দেখবে তারা তাদের অনেক প্রশ্নের উত্তর সেই আলোচনা থেকে পাবে। কিন্তু আপনি যদি কাউকে ব্যক্তিগতভাবে হেনস্তা করেন তাতে কি আদৌ কোনো সমাধান পাওয়া যাবে?

লিখাটি শিক্ষনবিশ আইনুল ইসলাম বিশাল এর ফেসবুক ওয়াল থেকে নেওয়া

আমার ক্যাম্পাস/ঢাকা

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর