1. amarcampus24@gmail.com : admin2020 :
আইনজীবী লিখিত পরীক্ষা বাতিল হবে না: ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন - AmarCampus24
রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১, ০৫:৫৯ পূর্বাহ্ন

আইনজীবী লিখিত পরীক্ষা বাতিল হবে না: ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন

আমার ক্যম্পাস/বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম :: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

আজ এনরোলমেন্ট কমিটির মিটিং…

আইনজীবী লিখিত পরীক্ষা বাতিলের দাবি নাখোচ করেছেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সহ-সভাপতি ও এনরোলমেন্ট কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন।

তিনি বলেন, এমসিকিউ উত্তীর্ণদের লিখিত মওকুফ করে ভাইভা নিয়ে গেজেট দেওয়ার দাবি মেনে নেওয়া হবে না। আমরা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) এনরোলমেন্ট কমিটির মিটিং করবো।

পরীক্ষা বাতিল হবে না। তবে পরীক্ষা পেছানো হবে কিনা, তা মিটিংয়ে আলোচনা করা হবে।

করোনা পরিস্থিতিতে অনেকটাই থেমে গিয়েছিল মানুষের দৈনন্দিন জীবন-যাপন। এদের মধ্যে সবচেয়ে করুণভাবে দিনাতিপাত করছেন শিক্ষানবিশরা।

স্বাভাবিক পরিবেশে আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত না হওয়ায় এবং বিকল্প পেশায় উপার্জনের সুযোগ না থাকায় ২০১৭ এবং ২০২০ সালের এমসিকিউ উত্তীর্ণ শিক্ষানবিশরা লিখিত মওকুফ করে ভাইভা নিয়ে গেজেট প্রকাশ করে,তাদের আইনজীবী হিসেবে ঘোষণার দাবি তুলেন।

তাদের এই দাবিকে ঘিরে পক্ষে-বিপক্ষে উঠে এসেছে আলোচনা-সমালোচনা আর বার কাউন্সিলের ব্যর্থতার চিত্র।

এমসিকিউ (নৈবর্ত্তিক), লিখিত এবং ভাইবা পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের আইনজীবী হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পূর্বে কখনও শুধুমাত্র ভাইবা, কখনও আবার লিখিত ও ভাইবা এবং বর্তমানে উক্ত তিন ধাপেই শিক্ষার্থীদের উত্তীর্ণ হতে হয়।

আইনজীবীদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকায় বার কাউন্সিল কৌশলগতভাবে ২০১১ সালের পূর্ব পর্যন্ত প্রতি বছরে দুটি করে পরীক্ষা নিলেও বর্তমানে ২ থেকে ৩ বছরের ব্যবধানে একটি মাত্র পরীক্ষা গ্রহণ করছে।

আবার পরীক্ষা নিলেও তার সকল কার্যক্রম শেষ করতে দেড় থেকে ২ বছর সময় কাটিয়ে দিচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিন ঝুলন্ত প্রক্রিয়ার ফলে শিক্ষার্থীরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। সেই সঙ্গে আইন পেশাও তার আভিজাত্য হারাচ্ছে।

এবার করোনা মহামারি শুরু হওয়ায় উপার্জনহীন শিক্ষার্থীদের আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন অনিশ্চিত হয়ে যায়।

সূত্র জানায়, বার কাউন্সিল পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ করে এনরোলমেন্ট কমিটি। আগে পরীক্ষা নিতো বার কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্যরা কিন্তু ২০১২ সালে আইন সংশোধন করা হয়।

বর্তমানে আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি সভাপতি পদে, সঙ্গে আরও দুজন বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল এবং বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যানসহ মোট ৫ সদস্যের ওই কমিটির পরীক্ষা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন।

বার কাউন্সিল স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও তারা নিজেদের ইচ্ছায় কিংবা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের চাপে লিখিত পরীক্ষা বাতিল করে ভাইভা নিয়ে গেজেট দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছে। তবে আইনমন্ত্রী উদ্যোগ নিলে এনরোলমেন্ট কমিটি পরীক্ষা বাতিলের জন্য আ্ইন সংশোধনের উদ্যোগ নেবে বলে একটি সূত্র জানায়।

করোনাভাইরাসের সেকেন্ড ওয়েভ আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ১৬ সেপ্টেম্বর গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সভায় প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন।

এদিকে আন্দোলনকারীদের নেতৃবৃন্দ ফজলে রাব্বি, একেএম মাহমুদ, সুমনা আক্তার ও আইনুল ইসলাম আমার ক্যাম্পাস কে বলেন, প্রতিবছর নিয়মিত পরীক্ষা না নিয়ে শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের যে জট তৈরি হয়েছে এজন্য বার কাউন্সিলের স্বেচ্ছাচারিতাই একমাত্র দায়ী।

ফজলে রাব্বি, একেএম মাহমুদ, সুমনা আক্তার ও আইনুল ইসলাম

তারা আমাদের করোনা পরিস্থিতিতে সারাদেশ থেকে ঢাকায় জড়ো করার মাধ্যমে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে চায়।

পরীক্ষা দিতে এসে শিক্ষার্থীদের কেউ নতুন করে করোনা আক্রান্ত হলে তার দায় কি বার কাউন্সিল নিতে পারবে?

বার কাউন্সিল সূত্র জানায়, বর্তমানে অ্যাটর্নি জেনারেলসহ এনরোলমেন্ট কমিটির দুজন সদস্য করোনা আক্রান্ত চিকিৎসাধীন আছেন।

পরীক্ষার খাতা দেখতে ছয় থেকে আট মাসের বেশি সময় কেটে যাওয়া:

পূর্বে লিখিত পরীক্ষার খাতা আইনজীবীদের মাধ্যমেই দেখানো হতো। কিন্তু সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সময়ে বার কাউন্সিলের আইন পরিবর্তন করে লিখিত পরীক্ষার খাতা দেখার ভার হাইকোর্টের বিচারপতিদের ওপর ন্যস্ত করা হয়।

কিন্তু মামলা জটের তুলনায় হাইকোর্টের বিচারপতির সংখ্যা কম হওয়ায় কোনও কোনও মামলার রায় লিখতে বছরের পর বছর কেটে যায়।

অথচ এরপরও বিচারপতিদের ওপর হাজার হাজার শিক্ষানবিশ আইনজীবী শিক্ষার্থীর খাতা দেখার ভার অর্পণের বিষয়টি ‘অতিরিক্ত চাপ’ বলে মনে করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন আইনজীবী।

২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত বার কাউন্সিলের পরীক্ষা তারিখ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আইনজীবী অন্তর্ভুক্তির প্রথম ধাপ অর্থাৎ নৈর্ব্যক্তিক (প্রিলিমিনারি) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২০১৭ সালের ২১ জুলাই। ওই পরীক্ষায় অংশ নেন প্রায় ৩৪ হাজার ৩৮৯ শিক্ষার্থী। সেখান থেকে ১১ হাজার ৮৪৬ জন পরীক্ষার্থীকে লিখিত পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের জন্য উত্তীর্ণ করা হয়।

২০১৭ সালের ১৪ অক্টোবর তারা লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এরপর প্রায় ৯ মাস পর ২০১৮ সালের ৪ জুন লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ৮ হাজার ১৩০ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হন।

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা মৌখিক (ভাইবা) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৮ হাজার ১৩০ জনের মধ্যে থেকে মৌখিক পরীক্ষায় ৭ হাজার ৭৩২ জন পরীক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ করে ২০১৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর ফলাফল প্রকাশ করে বার কাউন্সিল।

বিচারপতিদের দিয়ে পরীক্ষার খাতা দেখানোর অতিরিক্ত চাপ কমানো প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, বিষয়টি আলোচনা করে দেখবো। যেটা সবার জন্য সহজ হয় সেই বিষয়টিকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে। 

আমার ক্যাম্পাস/ঢাকা/খপ

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর