1. amarcampus24@gmail.com : admin2020 :
১০ লাখ চারা বিতরণ করেছেন ইবির প্রধান প্রকৌশলী - AmarCampus24
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ০১:১১ অপরাহ্ন

১০ লাখ চারা বিতরণ করেছেন ইবির প্রধান প্রকৌশলী

আমার ক্যম্পাস/ইবি প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম :: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

গত ২২ বছরে ১০ লক্ষাধিক চারা বিতরণ করে পরিবেশ সংরক্ষণে অবদান রেখে আসছেন তিনি। তিনি এবং তার সংগঠন গ্রিন চাইল্ড এ সেবামূলক কাজ করে আসছেন। গরিবের বন্ধু নামেও খ্যাতি রয়েছে টুটুলের।

কর্মজীবনের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই সমাজের অবহেলিত ও গরিব-দুঃখী মানুষের জন্য কাজ করে থাকেন টুটুল। যার প্রতিদানস্বরূপ তিনি বিভাগের শ্রেষ্ঠ সমাজসেবক এবং দেশসেরা ছয়জনের একজন নির্বাচিত হয়েছেন।

প্রকৌশলী টুটুল থাকেন কুষ্টিয়া শহরে। কিন্তু সময় পেলেই তিনি চলে যান নিজ গ্রাম হাটশ হরিপুরে। সেখানে গিয়ে তিনি অংশ নেন বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে। এছাড়া গ্রামের গরিব-দুঃখীদের নিয়মিত খোঁজ-খবর নেন। পরিবেশবান্ধব ও সবুজ বনায়নের লক্ষ্যে তিনি গড়ে তুলেছেন গ্রিন চাইল্ড নামক সংগঠন।

সংগঠনের উদ্যোগে ইবি ক্যাম্পাস, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও লোকালয়ে চারা রোপন ও বিতরণ করা হয়। এছাড়া ব্যক্তিগতভাবেও তিনি বিভিন্ন জাতের ফলদ, বনজ, ঔষুধি ও ফুলের চারা বিতরণ করেছেন। গত ২২-২৩ বছরে তিনি শতাধিক প্রতিষ্ঠানে ও হাজার হাজার বাড়িতে বিভিন্ন জাতের ১০ লক্ষাধিক চারা রোপন ও বিতরণ করেছেন।

গ্রিন চাইল্ড সংগঠনের আহমেদ সাকিব বলেন, যখন বিশ্বের মানচিত্রে পৃথিবীর ফুসফুস আহতগ্রস্ত, যখন সারা বিশ্ব তোলপাড় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ নিয়ে। তারও দুই যুগ আগে থেকে নীরবে-নিভৃতে বিনামূল্যে মানুষকে বৃক্ষরোপণের উৎসাহ দিচ্ছেন প্রকৌশলী টুটুল।

ফলদ গাছের মধ্যে সাধারণত আম, পেয়ারা, কাঁঠাল, লিচু, জামরুল, বরই, কামরাঙ্গা, আমড়া ইত্যাদি জাতীয় গাছ বেশি প্রদান করা হয়। অল্প সময়ের ব্যবধানে এসব গাছে ফল আসে জানালেন তিনি।

ইতোমধ্যে নিজ গ্রামবাসীকে নতুন চমক দেখিয়েছেন তিনি। তারই উদ্যোগে নির্মিত হাটশ হরিপুর বড় জামে মসজিদের ছাদে প্রায় ১০০ প্রজাতির ফুল-ফলের বাগান করেছেন তিনি। ছোট-বড় চারশ টবে বিভিন্ন গাছ শোভা পাচ্ছে এখানে। আর এ কাজে প্রায় ৩ লাখ টাকা খরচ করেছেন তিনি। মানুষকে রুফ গার্ডেনে উৎসাহিত করার জন্যই এটা করেছেন বলে জানালেন টুটুল।

চাকরির পাশাপাশি তিনি ইউটিউবে বাড়ির ডিজাইন নিয়ে কাজ করেন। নিজের অর্জিত অর্থের কিছু আর ইউটিউব থেকে প্রাপ্ত অর্থের সবটাই তিনি এসব কার্যক্রমে ব্যয় করেন।

১০ লক্ষাধিক চারা বিতরণের বিষয়ে তিনি বলেন, স্বপ্ন মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। প্রথমে যখন আমি সামাজিক কাজ শুরু করি তখন লিটন নার্সারি থেকে কিছু গাছ কিনতাম। এগুলো আমার গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করতাম।

অনেক সময় লিটন নার্সারির মালিক আমাকে অনেক টাকার গাছ বাকিতেও দিতেন, পরে তা পরিশোধ করতাম। এভাবেই পথচলা, আর এভাবে চলতে চলতে বিতরণ করে ফেলেছি ১০ লক্ষ গাছের চারা।

অনেকটা আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, একদিন সবাইকে চলে যেতে হবে। কিন্তু তার মাঝে কিছু কর্ম রেখে যেতে পারলে মানুষ উপকৃত হবে, আমার আত্মা শান্তি পাবে। এজন্যই আমি এগুলো করে মজা পাই।

আমার ক্যাম্পাস/ঢাকা/আর এম

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর